কয়েক বছর ধরে কর্মী সংকটে ভুগছে মার্কিন হোটেল শিল্প। এর মাঝে নতুন করে অভিবাসনে কড়াকড়ি আরোপ করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে শিল্পটিতে চলমান কর্মী সংকট আরো তীব্র হয়ে উঠছে, বিশেষ করে মৌসুমি ও অস্থায়ী কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের হোটেলগুলো বিদেশী জনবলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি শূন্যপদ রয়েছে এ খাতে। এ কারণে হিলটন ও ম্যারিয়টসহ বড় হোটেল চেইনগুলো মার্কিন সরকারের কাছে অভিবাসননীতি আরো সহজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে দেড় কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশেই ছিল বিদেশী কর্মী। তবে খাতটিতে লোকবল সংকট ক্রমেই বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএলএ) জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৭১ শতাংশ হোটেল শূন্যপদ পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে স্কি রিসোর্ট ও বিনোদন পার্কগুলোয় স্থানীয় কর্মীরা এসব কাজে আগ্রহী নয়, যা হোটেল শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন ও এএইচএলএ দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসননীতির সংস্কারের জন্য আবেদন করে আসছে, বিশেষ করে এইচ-টুবি ভিসা প্রোগ্রামের সম্প্রসারণ চায় তারা। প্রোগ্রামটির মাধ্যমে বিদেশী শ্রমিকরা অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পান।
২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন এ সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছিল। যেখানে ২০২৫ অর্থবছরে এইচ-টুবি ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর অনুমতি দেয়া হয়। তবে শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা মনে করছেন, আরো পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
হোটেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহী ও শ্রমিক সংগঠন একযোগে অভিবাসননীতি সংস্করণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তারা সবাই একমত যে হোটেল শিল্পের টিকে থাকার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন।
অস্থায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার প্রক্রিয়া সহজ ও আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত কাজের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হলেও সরকারের অভিবাসননীতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। শ্রমিক নিয়োগের সংকট সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল শিল্পের জন্য অভিবাসন সংস্করণ এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।